দুই পরাশক্তির সংঘাতের উত্তাপে ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠানই টিকে থাকার লড়াই করছে। তবে এ পরিস্থিতির মধ্যে ‘হান্টার কোম্পানি’ নামের এক প্রতিষ্ঠানের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি বেশ নাটকীয়। পতনের একেবারে দ্বারপ্রান্তে গিয়েও কোম্পানিটি কীভাবে ফিরে এসেছে, তা বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থার এক অনন্য উদাহরণ। রয়টার্সের বরাতে ঘটনাটি তুলে ধরা হলো।
হান্টার কোম্পানি একটি পারিবারিক ব্যবসা। কোম্পানিটি পরিচালনা করেন দুই ভাই ডেভিড চেউং ও জেসন চেউং। তাদের প্রতিষ্ঠানটি মূলত শিশুদের শিক্ষামূলক খেলনা তৈরি করে। চীনের শাওগুয়ান শহরে অবস্থিত এ কারখানায় প্রায় ৪০০-৫০০ শ্রমিক কাজ করেন। হান্টারের খেলনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত চেইন শপ যেমন ওয়ালমার্ট ও টার্গেটে বিক্রি হয়।
গত বছরের ১২ মে ছিল হান্টার কোম্পানির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। তখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। তবে সেদিনই দুই পক্ষ একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছায় ও একে অন্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। একই সময় টিকে থাকার শেষ চেষ্টা হিসেবে দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেন, তারা চীনে আর উৎপাদন কার্যক্রম চালাবেন না। ফলে খেলনা তৈরির ছাঁচ বা ‘মোল্ডগুলো’ ভিয়েতনামে সরিয়ে নেয়ার সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। এমনকি ওইদিন পণ্যবাহী একটি জাহাজ তখন চীনা কাস্টমস পার হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।
শুল্ক প্রত্যাহারের খবরটি ডেভিড চেউং ও জেসন চেউংয়ের কাছে পৌঁছতে অবিলম্বে চালানটি ফেরত নেয়া হয়। পরে তারা উপলব্ধি করেন, যদি সেই ছাঁচগুলো একবার সীমান্ত পার হয়ে যেত, তবে তাদের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারত। কারণ মূল্যবান ছাঁচগুলো পুনরায় চীনে ফিরিয়ে আনা ছিল দীর্ঘ সময়ের কাজ।
ডেভিড চেউং বলেন, ‘সেই একটি দিন সবকিছু বদলে দিতে পারত। আমরা অনেক বেশি ভাগ্যবান ছিলাম।’